এম এ খালেক
ইসলাম হচ্ছে মহান রবের একমাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম সর্বকালিন এবং সমকালিন শ্রেষ্ঠ ধর্মও বটে। জীবন চলার পথে এবং পরকালিন মুক্তির জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবই ইসলাম ধর্মে বিধৃত হয়েছে। বিশেষ করে জ্ঞানের এমন কোনো ক্ষেত্রে নেই যা ইসলামে বিবৃত হয় নি। অন্য কথায় বলা যায়, ইসলাম হচ্ছে জ্ঞানের অফুরন্ত ভান্ডার। তরবারি অথবা গায়ের জোরে বিশ^ব্যাপী ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নি। বরং জ্ঞান এবং অমায়িক ব্যবহার দ্বারাই বিশ^ব্যাপী ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলাম ধর্মে জ্ঞানার্জনের উপর যেভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে অন্য কোনো ধর্মে তা হয় নি। ইসলাম মনে করে জ্ঞানই শক্তি। হেরা পর্বতের গুহায় অবস্থানরত প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর প্রথম কোরআনের যে আয়াত নাজিল হয়েছিল তা ছিল, ‘‘ ইকরা বিস্মি রাব্বিকাল্লাজী খালাক।’’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় অনেকটা এরকম, পড়ুন আপনার ররের নামে যিনি সৃজণ করেছেন। অন্যত্র বলা হয়েছে, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য এলেম হাসিল করা ফরজ। অনেকেই অজ্ঞতা এবং র্ধষ্টতা বশত বলে থাকেন, নবী করিম (স:) ছিলেন অশিক্ষিত। এ ধরনের বক্তব্য অবশ্যই একজন মুসলমান কোনোভাবেই বিশ^াস করতে পারেন না। মহান আল্লাহ তার প্রিয় নবীকে কোনো সাধারণ মানুষের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতে দেননি। তিনি নিজে তার প্রিয় হাবিবকে এমনভাবে জ্ঞান দান করেছিলেন যা ছিল জাগতিক সব জ্ঞানের চেয়ে উত্তম। আর এটা কে না জানে যে, আল্লাহ্র চেয়ে মহান শিক্ষক বা জ্ঞানদাতা আর কে হতে পারেন? অন্যত্র বলা হয়েছে, সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম যিনি কোরআন শিক্ষা করেন এবং অন্যকে শিক্ষাদান করেন। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে জ্ঞানার্জনের উপর এত বেশি গুরুত্বারোপ করা হয় নি।
প্রশ্ন হলো, জ্ঞানার্জনের মাধ্যম বা পদ্ধতি কি? আমরা কিভাবে সত্যিকার জ্ঞানার্জন করতে পারি? প্রচলিত ধারনা মতে, সাধারণত দু’ভাবে শিক্ষা বা জ্ঞানার্জন করা যায়। প্রথমত, অনেক নিকট থেকে মৌখিক বর্ণনা শুনে অথবা অন্যের লিখিত বক্তব্য পাঠ করার মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। দ্বিতীয়ত, সরাসরি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা। সত্যিকার জ্ঞানার্জন করা সম্ভব সরাসরি নিজ চোখে দেখার মাধ্যমে। কারণ একবার স্বচক্ষে কিছু দেখার পর যে জ্ঞান আহরিত হয় হাজার বার তার বর্ণনা শুনে বা পাঠ করেও তা সম্ভব নয়। কারণ জগতের কেউই আল্লাহ্র সৃষ্টির সঠিক বর্ণনা দিতে পারবেন না। এটা মানুষের সাধ্যের বাইরে। মানুষ ইচ্ছে করলেই চন্দ্র, সূর্য বা সমুদ্র-পাহাড়ের সঠিক বর্ণনা দিতে পারবে না। জ্ঞানার্জনের জন্য যে দু’টি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় তার একটি হচ্ছে প্রতীক্ষভাবে জ্ঞানার্জন এবং অন্যটি হচ্ছে পরোক্ষ জ্ঞানার্জন। ইসলামে জ্ঞানার্জনের উপর সর্বাাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ জ্ঞানার্জনের উপরই বেশি জোর দেয়া হয়েছে। এ জন্যই একজন মুসাফির অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন। আল্লাহ চান বান্দা তার চমৎকার সব সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করুক এবং চিন্তা করার উপকরণ লাভ করুক। এ জন্যই একজন মুসাফিরের জন্য বেশ কিছু বিরল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের উপর ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করতে হয়। অসুস্থ্য ব্যক্তির জন্য বসে নামাজ আদায় করার অনুমতি আছে। এমন কি যিনি বসে নামাজ আদায় করতে পারবেন না তিনি শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। শুয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করতে না পারলে তিনি ইশারা বা ইঙ্গিতে নামাজ আদায় করবেন। একজন মুসলমানের জ্ঞান থাকা পর্যন্ত নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক। যত অসুস্থ্যই হোন না কেনো ফরজ নামাজ পুরোটাই আদায় করতে হয়। কিন্তু একজন মুসাফিরের জন্য ফরজ নামাজ ‘কসর’ বা সংক্ষিপ্তকরণ করে দেয়া হয়েছে। একজন মুসাফিরের জন্য চার রাকায়াত ফরজ নামাজ দুই রাকায়াত এবং তিন রাকায়াত ফরজ নামাজ ২ রাকায়াত আদায় করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এমন কি মুসাফিরের জন্য রমজানের রোজা রাখাটাও বাধ্যতামূলক নয়। মুসাফির চাইলে রজানের রোজা কোনো ধরনের শাস্তি ছাড়াই পরবর্তীতে ক্বাজা আদায় করতে পারেন। আমরা বর্তমানে যে পর্যটন শিল্প প্রত্যক্ষ করি তা ইসলামি ‘ছফর’ এর কিছুটা পরিবর্তিত রূপ মাত্র। আর পর্যটক হচ্ছেন একজন মুসাফিরের পরিবর্তিত রূপ মাত্র। ভিন্নতা এখানেই যে, ইসলামে যে ছফর ব্যবস্থা আছে সেখানে ধর্ম বিরোধি বা পরিবেশের স্বাভাবিকতার পরিপন্থি কিছু করা যায় না। আর বর্তমান আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থার নামে বেশির ভাগ সময়ই ধর্ম ও সমাজ বিরোধি নানা অপকর্ম চালানো হয়।
বর্তমান বিশে^ পর্যটন হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান একটি শিল্প। বেশ কয়েক বছর আগে একটি বিদেশি সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিশ^ব্যাপী পর্যটন শিল্প প্রতি বছর ১১ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। যেমন প্রতিবেশি দেশ নেপালের জাতীয় অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। পর্যটন শিল্প এমনই এক অর্থনৈতিক উপকরণ যেখানে নতুনভাবে তেমন কোনো কিছুই সৃষ্টি বা তৈরি করতে হয় না। প্রকৃতি প্রদত্ত উপকরণগুলোকে কিছুটা রূপান্তর এবং সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটকদের নিকট উপভোগ্য করে তোলা হয় মাত্র। পর্যটনের মাধ্যমে একজন মানুষ তার ক্ষুদ্রতা এবং আল্লাহ্র শক্তিমত্তা অনুধাবন করতে পারেন। আল্লাহ্র সৃষ্টির নিকট মানুষ কতটা অসহায় এবং ক্ষুদ্র তা পর্যটনের মাধ্যমে সহজেই অনুধাবন করা যায়। একজন মানুষ নিজেকে যত বড় এবং শক্তিশালিই মনে করুন না কেনো কোনো সমুদ্র কিংবা পাহাড়ের নিকট গেলে তার আত্ম অহমিকা দূর হতে বাধ্য। আল্লাহ্র একটি মাত্র আদেশের ফলে সৃষ্টি হয়েছে সমুদ্র বা পাহাড়। মানুষ হাজার বছর চেষ্টা করলেও একটি সমুদ্র বা পাহাড় তৈরি করতে পারবে না। আল্লাহ্ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে মানুষের ঈমান পরীক্ষা করেন। ঝড়-বৃষ্টি বা করোনা ভাইরাস মহামারির নিকট মানুষ যে কতটা অসহায় তা বেশি ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশে ইদানিং পর্যটন শিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ কিছুটা হলেও বেড়েছে। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরগণ নিয়মিত পর্যটনের ব্যবস্থা করছেন। কোনো দেশে পর্যটন শিল্প বিকশিত হবার জন্য বেশ কিছু উপকরণের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, বন, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, প্রাচীন কীর্তি ও স্থাপনা, ওপেন সেক্স-মাদক ইত্যাদি। বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ হিসেবে ওপেন সেক্স কোনোভাবেই এ্যালাউড নয়। অন্য যেসব উপকরণ পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য প্রয়োজন হয় তার প্রায় সবগুলোই বাংলাদেশে বিদ্যমান। কাজেই আমাদের এখানে পর্যটন শিল্প বিকাশের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটন শিল্প আজ আর শুধু নির্মল বিনোদনের ক্ষেত্র মাত্র নয়। বরং এটা কর্মসংস্থানের এক বিরাট ক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে হোটেল ব্যবসায়, পরিবহন ব্যবস্থা, কুটির শিল্প ইত্যাদি অনেকগুলো খাত যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ আয়তনে অত্যন্ত ছোট একটি দেশ কিন্তু সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চেতনার ধারক বটে। আমাদের রয়েছে বিশে^র সবচেয়ে বৃহৎ প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। রয়েছে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করার বিরল সুযোগ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ যে কতটা সৌন্দর্যের প্রতীক তা একমাত্র যারা সেখানে ভ্রমণে গিয়েছেন একমাত্র তারাই বলতে পারবেন। তবে সেন্টমার্টিন্স সমুদ্র সৈকত অথবা রাঙ্গমাটির জেলার সাজেক ভ্যালি যে কতটা সুন্দর তা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীরাই উপলব্ধি করতে পারেন। এটা কোনোভাবেই লিখে অথবা মৌখিক বর্ণনাায় বুঝানো সম্ভব নয়। দিল্লির রেড ফোর্ড অথবা আগ্রার তাজমহল কিংবা আজমিরের আনাসাগর যারা পরিদর্শন করেন নি তারা অনুধাবন করতে পারবেন না এগুলো কতটা সুন্দর। আমরা আজমির ভ্রমণকালে আনাসাগরের বাঁধানো চত্ত্বরে বসে কেবলই মনে হচ্ছিল পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর স্থান কি আর আছে? জয়পুরের আম্বর প্যালেস না দেখলে বুঝা যায় না এটা কত সুন্দর একটি স্থাপনা। আমরা বেশ কিছু দিন আগে নেত্রকোনার বিরিশিরি গিয়েছিলাম। সেখানে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো দেখে মন জুড়িয়ে যায়। শেরপুরের গজনি পর্যটন কেন্ত্রে গিয়ে চমৎকৃত হয়েছিলাম। সেখানে একটি গাছের ডালে প্রায় এক শত মৌচাক প্রত্যক্ষ করি। কোনো একটি গাছে এত অধিক সংখ্যক মৌমাছি চাক বেধে ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে বসবাস করতে পারে তা না দেখলে বিশ^াস করতে কষ্ট হতো। গত ৫ মার্চ সংক্ষিপ্ত সফরে সুন্দরবন গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখে বিস্মিত হই। আল্লাহ্ কিভাবে বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য সুন্দরবনের সৃষ্টি করেছেন। অনেকেই আছেন যারা পর্যটনের প্রসঙ্গ এলেই বিদেশে যাবার কথা ভাবেন। কিন্তু তারা একবারও চিন্তা করে দেখেন না যে বাংলাদেশেও দেখার মতো অনেক কিছু আছে।


এখন প্রশ্ন হলো পর্যটনের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক কি? অথবা ইসলাম পর্যটনকে কোন্ দৃষ্টিতে দেখে? আগেই বলা হয়েছে ইসলাম হচ্ছে জ্ঞানের ধর্ম। এলেম হাসিলের উপর ইসলাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মূর্খের সারা রাত জেগে নফল ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানির নিদ্রা উত্তম।’ এর চেয়ে সুন্দর মন্তব্য আর কি হতে পারে? মহান আল্লাহ্ চান তার বান্দা সৃষ্টি জগতকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করুক, যাতে সে চিন্তার খোরাক লাভ করতে পারে। ইসলামের ‘ছফর’ এবং আধুনিককালের পর্যটন শিল্প অনেকটা একই রকম। পার্থক্য শুধু এখানেই যে, ইসলাম পর্যটন বা অন্য কোনো নামে বেলেল্লাপনাকে অনুমোদন দেয় না। কোনোভাবেই অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু আধুনিক পর্যটন শিল্পে অনৈকিতা এবং বেলেল্লাপনাকেও আশ্রয় দেয়া হয়। ইসলামের ৫টি মৌলিক স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ্জ্ব। এই হজ্জ্বও এক ধরনের পর্যটন বৈ আর কিছু নয়। মুসলমানরা তো বাড়িতে বসেও আল্লাহ্কে ডাকতে পারেন। তাহলে সৌদি আরবের মতো এত দূরবর্তী স্থানে গমন করার প্রয়োজন কি? আল্লাহ্ চান তার বান্দা সৃষ্টি জগতকে প্রত্যক্ষ করুক, যাতে তার চিন্তার জগৎ আরো সমৃদ্ধ হয়। আমরা মুসলমান মাত্রই মক্কা-মদিনার মুসলিম স্থাপত্য এবং কীর্তি সম্পর্কে কম-বেশি জানি। বিভিন্ন মাধ্যমের বর্ণনা থেকে আমরা এটা জানতে পারি। কিন্তু যে ব্যক্তি কখনোই হজ্জ্ব করার জন্য সৌদি আরব গমন করেন নি এবং মক্কা-মদিনার বিভিন্ন ইসলামি ঐতিহ্য স্ব-চক্ষে প্রত্যক্ষ করেন নি তার পক্ষে অনুধাবন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় যে ইসলাম প্রচারের জন্য নবী করিম (স:) কে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে। প্রচন্ড গরমের দেশ উষর মরুভূমি সৌদি আরবে তখন কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না। প্রচন্ড গরমের মধ্যে নবীজি (স:) সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। আমরা জানি নবীজি (স:) হেরা পর্বতের নির্জন গুহায় অবস্থানকালে হযরত জিবরাইল (আ:) এর মাধ্যমে সর্ব প্রথম পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করতাম হেরা পর্বতের গুহা হয়তো মাটি থেকে তিন বা চার ফুট উচুঁতে হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম এটা কয়েক শত ফুট উপরে। এতটা উপরে নবীজি (স:) কিভাবে এবং কত কষ্ট করেই না উঠতেন তা ভাবলেও গা শিউরে উঠে। যখন মদিনা মনোয়ারায় গিয়ে নবীজি (স:) এর রওজা মোবারকের নিকটে দাঁড়ালাম মনটা আপনা-আপনিই আবেগাকুল হয়ে উঠে। সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ, যাকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ্ পৃথিবীর কোনো কিছুটই সৃষ্টি করতেন না সেই মহামানব এখানে শুয়ে আছেন। সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য যে কি প্রচন্ড ভীড় তা বলে বুঝানো যাবে না। দেখতে গেলাম উহুদের পাহাড় সেখানে কাফেরদের সঙ্গে মুসলমানদের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল। বদরের প্রান্তর যেখানে মুসলমানদের সঙ্গে কাফেরদের প্রথম যুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল। যে যুদ্ধে আল্লাহ্ তার কুদরতি কৌশলে প্রিয় নবী মোহাম্মদ (স:) কে ফেরেস্তাদের দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। আমরা তায়েফ ছফর করি। সেই তায়েফ যেখানে প্রিয় নবীকে নির্মমভাবে কষ্ট দেয়া হয়েছিল। মদিনায় অবস্থানকালে আমরা ওয়াদিয়ে জ¦ীন বা জ¦ীনের পাহাড় দেখতে যাই। কথিত আছে যে, এখানে জ¦ীন জাতি নবীজি (স:)’র নিকট বায়াত গ্রহণ করেছিলেন। জ¦ীনের পাহাড়ের একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে এখানে সবকিছুই উল্টো দিকে চলে। গাড়ির চালক গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে স্টিয়ারিং এর বসে থাকলে গাড়ি আপনাআপনি উল্টো দিকে চলতে থাকে। অনেকেই বলে থাকেন চুম্বকের কারণে এটা ঘটে থাকে। কিন্তু তাই যদি হবে তাহলে পানির বোতল কেনো উল্টো দিকে ধাবিত হবে? পানির বোতল তো চুম্বকায়িত হবার কথা নয়। আমি নিজে যদি বিষয়টি প্রত্যক্ষ না করতাম তাহলে বিশ^াস করতে কষ্ট হতো। আগে বিভিন্ন বইয়ের বর্ণনায় মক্কা-মদিনা সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছি। মনে মনে নানা ধরনের চিত্র কল্পনা করেছি। কিন্তু পবিত্র হজ্জ্ব ব্রত পালন এবং ওমরা হজ্জ্বে সময় বিভিন্ন কিছু বাস্তবে দেখে আমার এত দিনের ধারনা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। মদিনায় হিজরতকালে নবীজি(স:) এবং তাঁর প্রিয় সাহাবী হযরত আবুবকর সিদ্দিকী যে পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই পাহাড়ের উচ্চতাও অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি।
ইসলাম জ্ঞানের ধর্ম। জ্ঞানার্জনের প্রতি ইসলাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। আর বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে পর্যটন। তাই ইসলামে পর্যটন শিল্পের উপর সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পর্যটন বা ছফরকালে কিছু বিধি বিধান মেনে চলতে হয়। যাতে কোনো কারণেই ইসলাম বিরোধি কোনো কার্যকলাপ সংঘঠিত না হতে পারে। আমরা যদি ইসলামি বিধান মেনে পর্যটন করি তাহলে তা থেকে সওয়াব আশা করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here