ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ

চেয়ারম্যান
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন(পিকেএসএফ)

এম এ খালেক: আপনার ছোট বেলার কিছু কথা জানতে চাই। যদি ছোট বেলার কথা একটু বলতেন?

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: আমার বাল্য কাল বলতে ঐ রকম কিছু নাই। একজন মানুষের বাল্য কাল যেমন স্বাভাবিক বা সাধারণ হয় আমার বাল্যকাল ঠিক তেমনি। আবার আমার বাল্যকাল অন্যদের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রমও ছিল। জন্মসূত্রে আমি বৃহত্তর সিলেট জেলার অধিবাসী। আমাদের পরিবারটি সিলেটের মধ্যে বেশ সম্মানিত একটি পরিবার হিসেবে বিবেচিত হতো। আমার বাবা ছিলেন খুবই সুপরিচিত এবং শ্রদ্ধাভাজন একজন ব্যক্তি। তিনি অখন্ড ভারতের আসাম প্রাদেশিক ব্যবস্থাপনা সংসদের সদস্য(এম এল এ) ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি একজন সফল শিক্ষকও ছিলেন। আমার বাল্যকাল ব্যতিক্রম ছিল এ কারণে যে আমি ছোট বেলায় স্কুলে পড়াশুনা করিনি। আমি বেশির ভাগ সময় আব্বার সঙ্গে থাকতাম। আব্বা আমাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। আব্বা একই সঙ্গে শিক্ষক এবং রাজনীতিবিদ হলেও চল্লিশ এর দশকের মাঝামাঝি এসে তার শিক্ষক পরিচয়ের চেয়ে রাজনীতিবিদ পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠে। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাবার সময় আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। যাত্রা পথে গাড়িতে বা ট্রেনে বসে আব্বা আমাকে পড়াতেন। তিনি প্রধানত বাংলা,ইংরেজি এবং অঙ্ক পড়াতেন। আব্বা শিক্ষক হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। যে কারণে আমি খুব সহজেই তার নিকট থেকে পড়া বুঝে নিতে পারতাম। বড় বড় খাতা ছিল সেই খাতায় আমি অনুবাদ করতাম। বাংলা থেকে ইংরেজি অথবা ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে হতো। যদি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে হতো তাহলে খাতার প্রথমে ইংরেজি লিখে দিতেন। আমি বাংলায় অনুবাদ করতাম। আব্বা কারেকশন করে দিতেন। পরবর্তী ঘরে আমি সেই কারেকশন করা অংশ পুনরায় লিখতাম। এভাবে আমি খুব দ্রুত ইংরেজি এবং বাংলায় দক্ষতা অর্জন করি। অংকটাও আব্বা খুব ভালো জানতেন। ফলে আমি খুব সহজেই অংকে পারদর্শি হয়ে উঠি।

এম এ খালেক: আমি শুনেছি আপনি বেশ বড় হয়ে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। বিষয়টি একটু বলবেন কি?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: আমি যেহেতু আব্বার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রোগ্রামে যেতাম তাই স্কুলে ভর্তি হতে আমার বেশ বিলম্ব হয়। আমি একবারে ক্লাশ এইটে ভর্তি হই। এত উপরের ক্লাশে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী সরাসরি ভর্তি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের বাড়ি ছিল ভারতের অংশে। অর্থাৎ বৃহত্তর সিলেটের যে অংশটা ভারতে পড়েছে আমাদের বাড়ি ছিল সেখানেই। ১৯৫২ সালের দিকে আমরা সিলেটের বাংলাদেশ অংশে চলে আসি। ১৯৫৩ সালে আমি স্কুলে ভর্তি হই। আব্বা ১৯৫৬ সাল থেকে রাজনীতি ছেড়ে দিলেন। আব্বা মৌলভীবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেখানে তিনি বহু দিন শিক্ষকতা করেছেন। আব্বা বললেন, তোমার এখন ক্লাশ সিক্সে ভর্তি হওয়া উচিৎ। বাড়ির নিকটবর্তী একটি স্কুলে ভর্তি হবার জন্য গেলাম। কিন্তু আমি দেখলাম,ছাত্ররা যে ইংরেজি জানে আমি তার চেয়ে অনেক বেশি জানি। আমি বললাম,এখানে ভর্তি হয়ে আমার কোনো লাভ হবে না। আমি বললাম, ক্লাস এইটে ভর্তি হবো। আব্বা শুনে খুব বিরক্ত হলেন। আব্বা খুবই নমনীয় ছিলেন। আমি আব্বাকে খুব ভয় করতাম। তবে স্বাধীনতা ছিল কথা বলার। আমি ইচ্ছে করলে আব্বার সঙ্গে তর্ক করতে পারতাম। কিন্তু আমার আশে পাশে যারা ছিলেন তারা আব্বার সঙ্গে তর্ক করাতো দূরের কথা কথা বলাই তাদের জন্য মুস্কিল ছিল। আমি কিছু বললে আব্বা গুরুত্ব দিয়ে তা শুনতেন। আব্বা বললেন,ঠিক আছে তুমি যদি পার তাহলে ক্লাস এইটেই ভর্তি হও। আমি রাজনগর হাই স্কুলে ক্লাস এইটে ভর্তি হলাম। কিন্তু ভর্তি হবার মতো উপযুক্ততা আমার ছিল না। বাংলা, ইংরেজি এবং অঙ্ক ছাড়া আর কোনো সাবজেক্ট আমি জানতাম না। কিন্তু আব্বার ছেলে হিসেবে আমাকে ভর্তি করে নেয়া হলো। আমি যেহেতু আব্বার সঙ্গে থাকতাম কাজেই আমার খুব বেশি বন্ধু-বান্ধব ছিল না। বাড়িতে থাকার সময় কিছু বন্ধু-বান্ধব হলেও সেটা ততটা ঘনিষ্ট নয়। কাজেই আমার বাল্যকালে খুব একটা বৈচিত্র নেই। তবে এক ধরনের ভিন্নতা আছে বৈকি। ক্লাস এইটে ভর্তি হবার পর প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালোই করলাম। বাংলাও ভালো করলাম। বাকি সাবজেক্টগুলোতে কম কম মার্কস পেলেও কোনো মতে পাশ করলাম। জ্যামিতি,অঙ্ক এবং এ্যালজাবরা মিলে একটি সাবজেক্ট ছিল। প্রত্যেক অংশে ৩৩ করে পেতে হতো। আমি অঙ্কের একটি অংশে সাড়ে ৩১ পেলাম। বাকি দু’অংশে শুণ্য পেলাম। এটি ছিল সাময়িক পরীক্ষা, কাজেই পদোন্নতির কোনো ব্যাপার ছিল না। কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষায় সব সাবজেক্টেই ভালোভাবে পাশ করলাম। ক্লাশ নাইনের ষান্মাসিক পরীক্ষার আগে সারা দিন খেটে আমি অঙ্ক ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলেছি। পরীক্ষায় অঙ্কে ৯০ পেয়ে গেলাম। ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠার সময় সম্ভবত চতুর্থ স্থান দখল করেছিলাম। এরপর নাইন থেকে টেনে উঠার সময় প্রথম হলাম। এই সময় সব সাবজেক্টেই ভালো নাম্বার পেলাম। এই সময় আমি খুব পরিশ্রম করেছি। কারণ পরীক্ষায় ভালো করতে হবে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ আমি নিজেই নিয়েছি। আমার শিক্ষার ভিত্তিটা সেখানেই তৈরি হয়।
এ সময় একটি মজার ঘটনা আছে। আমাদের এলাকাটি ছিল হিন্দু প্রধান। এখানে যারা বাস করতেন তারা ছিলেন খুবই নামি-দামি লোক। অঞ্চলটি ছিল একটি বর্ধিষ্ণু এলাকা। মুসলমান ছাত্র সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। মুসলমান ছাত্র যারা এখানে পড়তো তারা পিছিয়ে পড়া ছিল। শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় সবই হিন্দু ছিলেন। হিন্দু শিক্ষকদের অনেকেই ভারতে চলে যান। তারপরও আমি যখন পড়ি তখন মাত্র ৩/৪ জন শিক্ষক ছিলেন মুসলমান। মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে আমি প্রথম ঐ স্কুল থেকে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ করি। একই সঙ্গে একটি স্কলারশিপও পাই। অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ ভারতে চলে যাবার কারণে স্কুলে অভিজ্ঞ শিক্ষকের সঙ্কট ছিল। যারা আমাদের পড়াতেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিল ইন্টারমিডিয়েট পাশ। আমার এক বন্ধু ছিল অনীল দে। আমি এই স্কুলে আসার আগে সব সময় ক্লাশে ফার্স্ট হতো। সে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশনই পেলো না। ১৯৫৬ সালে আমি ম্যাট্রিক পাশ করি। ১৯৫৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করি। অনার্স এবং এম এ পাশ করি যথাক্রমে ১৯৬১ এবং ১৯৬২ সালে। একজন মুসলমান ছেলে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ করতে পারে এটা এলাকার মানুষের মধ্যে ধারনাই ছিল না। স্কুলে পড়ার সময় আমি ফুটবল খেলতাম।

এম এ খালেক: ছোট বেলায় আপনি কেমন ছিলেন। অর্থাৎ আমি জানতে চাচ্ছি আপনি কি দুষ্টু ছিলেন,নাকি শান্ত ছিলেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: অনেকেই বলে, ছোট বেলায় আমি দুষ্টু প্রকৃতির ছিলাম। আমি যখন খুবই ছোট ছিলাম তখন গাছে উঠে নুড়ি দিয়ে লোকজনকে মারতাম। এটা আমি শুনেছি। আমার নিজের মনে নেই। কেউ হয়তো গাছের নিচ দিয়ে যাচ্ছে তাকে ঢিল মারতাম। আরো বলে, আমি নাকি নানা ধরনের উৎপাত করতাম। বিশেষ করে খাওয়া নিয়ে বেশ উৎপাত করতাম। এটা আমার মনে আছে। খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা করতাম। আম্মা বলতে বলতে এটা আমার মনে আছে। ডিমের মধ্যে লবন দিলে আমি সেই ডিম খেতাম না। আবার লবন ছাড়া মজাও লাগে না। আম্মা মনে করতেন,ডিমে লবন দিয়েই খেতে হবে। তিনি একটু ধমক দিয়ে দিলেই লবন দিয়ে ডিম খেতাম।

এম এ খালেক: ছোট বেলায় যেহেতু আপনি দুষ্টু প্রকৃতির ছিলেন তাই নিশ্চয়ই বাবা-মায়ের হাতে মার খেয়েছেন। এ ধরনের কোনো অভিজ্ঞতার কথা বলবেন কি?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ:আমি ছোট বেলায় দুষ্টুমি করলেও তেমন একটা মার খাইনি এ জন্য। তবে মনে আছে একবার আব্বার হাতে মার খেয়েছিলাম। কারণ আমার ছোট বেলা থেকেই লম্বা চুল ছিল। আব্বা লম্বা চুল পছন্দ করতেন না। তিনি মাওলানা ছিলেন। তখন আমি বেশ বড় হয়ে গেছি। কিন্তু তখনও স্কুলে ভর্তি হইনি। আব্বা চুল ছোট করতে বলেন কিন্তু আমি চুল ছোট করিনি। আব্বা বললেন,আমি চুল ছোট করতে বললাম কিন্তু তুমি চুল ছোট করো নি। এই বলে তিনি আমাকে এক থাপ্পর মারেন। এটা আমার মনে আছে। আর কখনো তিনি আমাকে মারেন নি। এখানে আমি একটি মজার ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। আমি তখন ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে আমি মৌলভীবাজার থেকে। তখন রাজানগরে পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল না। আমাদের মৌলভীবাজার গিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। আমি মৌলভীবাজার গিয়ে আব্বার এক বাড়িতে থেকে পরীক্ষা দিলাম। তখন পরীক্ষা কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যেতো। সকালে বিকালে পরীক্ষা হতো। আমি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি চলে এসেছি। আমি দিনের বেলায় শুয়ে আছি। হঠাৎ করেই ঘুমিয়ে পড়ি। আব্বা এসে ডাক দেন। আমি হঠাৎ করেই আব্বার ডাক শুনে বিছানা থেকে পড়ে যাই। আব্বা তখন বলেন, ঠিক আছে ফেল করলে আর একবার পরীক্ষা দেয়া যাবে। এই ঘটনা মনে হলে এখনো খুব হাসি পায়। অবশ্য আমি পরীক্ষায় ভালোভাবেই পাশ করি।

এম এ খালেক: অর্থনীতিবিদগণ তো সাধারণত বৈষয়িক হয়ে থাকেন। তারা চুল ছোট রাখেন। চুল বড় এমন অর্থনীতিবিদ আমি খুব একটা দেখিনি। কিন্তু আপনি একজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ হয়েও চুল বড় রাখেন কেনো? এর পেছনে কি কোনো বিশেষ কার আছে?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: না কোনো বিশেষ কারণ নেই। ছোট বেলা থেকেই আমি চুল বড় রাখতাম। আমার ভালো লাগতো। আমি সব সময়ই চুল বড় রাখতাম। একবার চুল উঠে যাচ্ছিল বলে আমাকে বলা হলো চুল একেবারে ছেঁটে ফেলার জন্য। তখন আমি চাকরি করি। সেই সময় একবার চুল ছেঁটে ফেলেছিলাম। এরপর আর কখনোই আমি চুল ছোট করি নি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে যখন ফিরে আসি তখন আমার মাথায় অনেক চুল ছিল। আব্বা একবারই ছোট ছোট করার জন্য বলেছিলেন। পরবর্তীতে আর কিছু বলতেন না।

এম এ খালেক: ছোট বেলা থেকেই আপনি অত্যন্ত ভালো ছাত্র ছিলেন। তো ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার বা সিএসপি না হয়ে অর্থনীতিবিদ হলেন কেনো?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: ভবিষ্যতে ডাক্তার নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবো এ ধরনের কোনো টার্গেট আমার ছিল না। সিলেট এম সি কলেজে যখন ভর্তি হই তখন একজন শিক্ষক একদিন জিজ্ঞেস করেন কারা কারা প্রথম বিভাগে পাশ করেছো? আমরা মোট ৫ জন প্রথম বিভাগে পাশ করেছিলাম। তিনি জানতে চাইলেন কে কি হবে চাও? এক একজন তাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে বললো। কিন্তু আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে বললাম, আমি কি হতে চাই জানিনা। তখন সিএসপি’র কথাবার্তা চলছিল। আমি বললাম,সিএসপি হতে পারি। আবার শিক্ষকও হতে পারি। আমি অর্থনীতিবিদ হবো এটা তো আমার সিদ্ধান্ত নয়। আমি এমসি কলেজ থেকে পাশ করি তখন সবচেয়ে বেশি নম্বর পাই পৌরনীতি বলে একটি সাবজেক্ট ছিল তাতে। আমি বিশ^বিদ্যালয়ে এসে পলিটিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। এক সপ্তাহ ক্লাশও করলাম। কিন্তু ক্লাশ খুব একটা ভালো লাগছিল না। আমার এক বন্ধু ছিল আব্দুর রাজ্জাক নামে। সে প্রায়ই বলতো তোর তো ইকোনমিক্স পড়া উচিৎ,যদিও সে নিজে আরবি পড়তো। সে আমাকে অর্থনীতিতে পড়তে বলতো তার কারণ হলো ড.এমএন হুদাকে সে খুব শ্রদ্ধা করতো। সে চাইতো আমি যেনো ড. হুদার ছাত্র হই। এম এন হুদা ছিলেন অর্থনীতির হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট। আমি তার নিকট গেলাম। ড. হুদা আমাকে বললেন,তোমার নাম্বার তো ঠিক আছে তুমি আসতে চাইলে আসতে পারো। তবে পলিটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুমতি নিতে হবে। আমি পলিটিক্যাল সায়েন্স ডির্পাটমেন্টে গেলাম। সেখানে নিউম্যান বলে এক বৃটিশ ভদ্রলোক হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট। আমি কেরানির মাধ্যমে দরখাস্ত প্রেরণ করি। আমি অনুমতি পেলাম। এর পর অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হলাম। পলিটিক্যাল সায়েন্সে আমি এক সপ্তাহ পড়ি। এই এক সপ্তাহ ছিল আমার জন্য অত্যন্ত অশ^স্তিকর। কিন্তু অর্থনীতি বিভাগে আমার খুব ভালো লাগছিল। তখনকার দিনে এক ধরনের প্রবণতা ছিল যারা পরীক্ষায় ভালো করতো তারা প্রায় সবাই সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিসে যোগ দিতে চাইতেন। রুটিন করে সবাই পরীক্ষা দিতো। কেউ চান্স পেতো কেউ পেতো না। কিন্তু সবাই পরীক্ষা দিতো। কিন্তু আমি সেই সময় সিদ্ধান্ত নিলাম যে সিভিল সার্ভিসে যাবো না আমি গবেষক হবো।

এম এ খালেক: বিশ^বিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: বিশ^বিদ্যালয় জীবনে আমার প্রেম-ভালোবাসা বলে তেমন কিছু ছিল না। বিশ^বিদ্যালয়ের কথা একটু বলি। আমাদের সময় বিশ^বিদ্যালয়ে মারামারি কিছু হতো। ১৯৬২ সালে আমরা যখন পাশ করে যাই তখণ হকি স্টিক নিয়ে মারামারি হতো। কিন্তু অগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার তখন একেবারেই ছিল না। খুন খারাবি ছিলই না। এখন তো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রকম হয়ে গেছে। কথায় কথায় পিস্তল-রিভলবার বের করা হয়। তখন এমনটি ছিল না। আমাদের সময় যে মারামারি হতো তাকে আমরা খুব খারাপ চোখে দেখতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তখনকার মারামারি অনেক ভালো ছিল। একবার পুলিশ হামলা করে এসএম হলে। আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে হলের সবাই পালিয়ে গেছে। আমি তো আমার রুমে ঘুমিয়ে আছি। আমি ঘুম থেকে জেগে দেখি কেউ নেই। আমি বাইরে এলাম। দারোয়ান বললেন,পুলিশ এসেছে শুনে সব ছাত্র হল ত্যাগ করেছে। এই ঘটনাটি মনে পড়ছে।

এম এ খালেক: সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আপনি তো অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে আনন্দ পেয়েছেন কোন্ দায়িত্বে?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ:আমি সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অনেক দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু সবচেয়ে আনন্দ পাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে। আর একটি আনন্দের বিষয় হচ্ছে আমার গবেষণা। আমি বিআইডিএস এ ছিলাম। প্রচুর গবেষণা করেছি। এই সব গবেষণার বেশির ভাগই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন যাত্রাকে কেন্দ্র করে। এটা আমাকে খুব আনন্দ দিয়েছে। খুব বড় দু’টি গবেষণা হয়েছে আমার নেতৃত্বে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে রুরাল ইন্ডাস্ট্রি এবং অন্যটি হচ্ছে স্টাডিজ অন রুরাল ইন্ডাস্টিজ। এই গবেষণা দু’টো প্রায় একই রকম। এই গবেষণার একটি করা হয়েছিল ১০টি উপজেলায় অন্যটি ৪০টি উপজেলায়। প্রথম গবেষণা করা হয়েছিল ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সময় ব্যাপী। আর দ্বিতীয়টি ছিল ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত। আমি এই গবেষণা করার সময় বেশ উপভোগ করেছি। এটা আমার একটি বড় ধরনের গবেষণা কাজ। অনেগুলো ভলিউম বেরিয়েছে। আমি যখন গবেষণা করি তখন অনেকের জানাই ছিল না যে গ্রামের মানুষ কৃষি কাজ ছাড়া আর কিছু করে। আমার সেই গবেষণা থেকে বিষয়টি বেরিয়ে আসে। গবেষণার কাজে আমি সব সময়ই গ্রামের মানুষের নিকট গিয়েছি। মানুষের কাছে গেলে আমার ভালো লাগে। আমি আমার গবেষণায় যে সব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি এখন পিকেএসএফ থেকে সেইগুলো বাস্তবায়ন করছি। আমি তখন গবেষণার সময় দরিদ্র মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। এখন সেই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছি। ১৯৮৩ সালে আমি আমার এক লেখায় বলেছিলাম,ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন হবে না। ১৯৯৫ সালে অর্থনীতি সমিতিতে আমি একটা বক্তৃতা দেই। সেখানে আবারো বলি ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন হবে না। ২০০৬সালে সারা দেশে এ নিয়ে একটি গবেষণা করি। ২০০৭ সালে আমার বই বের হয়। এই বইয়ে পরিস্কারভাবে আবারো বলি ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। উচ্চ সুদ হার, প্রতি সপ্তাহে কিস্তি ফেরৎ দিতে হয়। আসলে ক্ষুদ্র ঋণ দায়িত্ব বিমোচনে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারছে না। মূলত এ কারণেই আমি পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনে আসতে চাচ্ছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম,ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমি কিছু করতে পারবো না। আমি আমার গবেষণায় পেয়েছিলাম ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠতে সমর্থ হয়েছে। যারা ক্রমান্বয়ে অন্তত ৪ বছর ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছে তাদের এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বাকীদের অনেকের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠতে পারেনি। আরো অনেক গবেষণা হয়েছে এবং তার রেজাল্ট মোটামুটি একই ধরনের। ওয়াশিংটনের একটি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে গবেষণা করেছে। বাংলাদেশে পরিচালিত তাদের সেই গবেষণা প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। তাদের গবেষণার সময় কাল ছিল ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। এতে তারা দেখিয়েছে,এই সময়ের মধ্যে ২ মিলিয়ন পরিবার দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠতে সমর্থ হয়েছে। তারা এটা ব্যাপকভাবে প্রচার করে। কিন্তু তারা বলতো না কত পরিবার ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছিল। তাদের এই গবেষণা প্রতীয়মান হয়েছে যে মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠতে সমর্থ হয়েছে। অভিজিৎ ব্যানার্জি নামে এক ভদ্রলোক গবেষণা করেছেন ৭টি দেশের উপর। তিনি দেখিয়েছেন, ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণকারিদের আয়ের দিক থেকে তেমন কোনো উন্নতি হয় নি। দারিদ্র্য নিরসনে তেমন কোনো সাফল্য অর্জিত হয় নি। আমার গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য এবং অন্যান্য গবেষণার তথ্য মোটামুটি একই রকম।

এম এ খালেক: আপনি তো শিক্ষানীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে দেশব্যাপী প্রশ্ন পত্র ফাঁসের যে ঘটনা ঘটছে তাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: এটা তো শিক্ষা নীতির ব্যাপার নয়। শিক্ষানীতি তো করা হয়েছে কি পড়ানো হবে, কেমনভাবে পড়ানো হবে.কিভাবে মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা যায় এই সব বিষয় নিয়ে। কিভাবে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন হবে। কিভাবে নৈতিকতা নিশ্চিত হবে। উচ্চ শিক্ষা কেমন হবে ইত্যাদি বিষয় শিক্ষা নীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা কেমন হবে, প্রাথমিক শিক্ষা কেমন হবে এগুলো শিক্ষা নীতিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা নীতিতে মোট ২৪টি লক্ষ্য আছে। এর মধ্যে অর্ধেকই মানবিক গুনাবলি এবং বাকীগুলো যোগ্যতা বৃদ্ধি বিষয়ক। প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এটা শিক্ষা নীতির ব্যাপার নয়, এটা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক। তবে প্রশ্ন পত্র ফাঁস হবার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা জঘন্য একটি বিষয়। মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে জেনেই হোক আর না জেনেই হোক সবাই কোনো না কোনো ভাবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে দু:খজনক ব্যাপার হচ্ছে শিক্ষকরা প্রশ্ন ফাঁসে সহায়তা করছে। মা-বাবা তাদের ছেলে-মেয়েদের হাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র তুলে দিচ্ছেন। এটা নৈতিকতার মারাত্মক অবক্ষয় বলেই আমি মনে করি। এটা আমাদের জাতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। শিক্ষার মান অবনতি ঘটছে। আমি মনে করি, যে কোনো মূল্যেই হোক প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়া বন্ধ করতে হবে।


এম এ খালেক: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আপনি নানাভাবে অবদান রেখেছেন। তো আপনার কোন অবদানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমার যদি কোনো অবদান থেকে থাকে তা হচ্ছে মানুষ কেন্দ্রিক উন্নয়ন। মানুষ কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভাবনাটি আমার অনেক দিন ধরেই ছিল। এখন আমি সেটা বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছি। আমি এ ক্ষেত্রে দু’একটি উদাহরণ দিতে চাই। আমাদের কিছু কর্মসূচি আছে সমাজের অতি দরিদ্র মানুষকে নিয়ে। অথবা যেখানে কোনো পুরুষ নেই শুধু মহিলার পরিবার পরিচালনা করছে। এসব মানুষকে নিয়ে আমাদের একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম আছে। তারা যদি ২ বছরে ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারে তাহলে পিকেএসএফ থেকে আরো ২০ হাজার টাকা তাদের দেয়া হয়। আমরা এই যে টাকা দেই তার একটি শর্ত আছে। শর্তটি হচ্ছে এই টাকা সংসারের কাজে ব্যয় করা যাবে না। এই টাকা দিয়ে সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। জমি কিনবে অথবা গরু কিনবে কিংবা একটি মেশিন কিনবে। অথবা সন্তানদের দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেবো,যাতে সে নিজেই পরবর্তীতে কাজ করে সংসার চালাতে পারে। এসব কাজ পরিদর্শনের জন্য আমাকে মাঝে মাঝেই গ্রামে যেতে হয়। একবার এক গ্রামে গেছি। সেখানে একজন বয়স্ক মহিলা ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছেন। তাকে পিকেএসএফ এর পক্ষ থেকে আরো ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। আমি ভদ্র মহিলার হাতে ৫ হাজার টাকার একটি চেক দিলাম। তিনি যে হাসি দিলেন তার মূল্য আমার নিকট কোটি টাকার চেয়েও বেশি। এই যে কিছু করার আনন্দ তার কোনো তুলনা হয় না। দরিদ্র মানুষকে কিছু সহায়তা করতে পারলে তার মাঝে প্রাণ সঞ্চার হয় এটা অমূল্য সম্পদ। দ্বিতীয় যে মহিলার কথা বলবো তিনিও ৬০/৬৫ বছর বয়স্ক। তিনি আগে ভিক্ষা করতেন। এ বাড়ি ওবাড়ি কিছু কাজ করতেন। এভাবে যে টাকা তিনি পেতেন তা খেয়ে ফেলতেন। তাকে আমরা সহায়তা করি। পরবর্তীতে আমি যখন সেই এলাকায় গেলাম জানতে পারলাম তিনি তার সঞ্চয দিয়ে ৬/৭টি গরু কিনেছেন। এই গরুর দুধ বিক্রি করে তার সংসার চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া এই গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬/৭ লাখ টাকার মতো। তার বাড়ির পুরনো ঘরটিও ঠিক করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার বাড়ি এবং সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে কি করতে চান। তিনি উত্তরে সবাইকে চমকে দিয়ে বলেন, আমার বাসা ছোট কিন্তু আশা ছোট নয়। আমি ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু করতে চাই। একই এলাকায় অন্য একটি বাড়িতে গেলাম। সেখানে স্বামী-স্ত্রী বাস করেন। তাদের বয়স চল্লিশের নিচে। তারা বিভিন্ন বাড়িতে মজুর খাটতেন। ছেলেটিও দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করতো। ওদের আমরা সহায়তা করেছি। এখন তাদের আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো। তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সব্জি চাষ করছে। তারা এখন নিজেরা অন্যের বাড়িতে মজুর খাটে না বরং তারাই এখন অন্য মানুষকে মজুর হিসেবে তাদের বাড়িতে খাটায়। মহিলা বাড়ির আঙ্গিনায় বসে সুপারি খাচ্ছিলেন। একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি আগেও এভাবে সুপারি খেতেন? উত্তরে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বলেন,আগেও খেতাম। আগে সুপারি খেতাম দু:খে আর এখন সুপারি খাই সুখে। আর একটি ঘটনা। একজন ভিক্ষুককে আমরা সহায়তা করি। অনেক দিন পর আমি সেই এলাকায় গিয়েছি। দেখলাম সেই লোক একটি দোকান দিয়েছেন। তিনি আমাকে দেখে বললেন,স্যার একটু চেয়ারে বসেন আমি আপনার সঙ্গে একটি ছবি তুলবো। আমি চেয়ারে বসার পর দেখি সেই চেয়ারটা ছিল সিংহাসনে মতো। আমি তাকে প্রশ্ন করি এমন চেয়ার কেনো বানালেন? তিনি বলেন, অনেক দিন থেকেই ইচ্ছে ছিল এমন একটি চেয়ারে বসবো। কিন্তু এতদিন সম্ভব হয় নি। এখন আর্থিক অবস্থা যেহেতু কিছুটা ভালো হয়েছে তাই এমন একটি চেয়ার তৈরি করেছি। কিছু দিন পর আমি সেই দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় দোকান বন্ধ দেখতে পাই। আমি জানতে চাইলাম দোকান বন্ধ কেনো। আমাকে একজন জানালেন এখনো মাঝে মাঝে দোকান খোলা হয় কিনউ বেশি দিন এই দোকান তিনি চালাবেন না। তিনি ধানের চাতাল দিয়েছেন। সেই চাতালের আয় দিয়ে তিনি একটু জমি কিনে সেই জমিতে নতুন বাড়ি বানাচ্ছেন। এ ধরনের সাফল্য আমাকে উৎসাহিত করে। আমরা পিকেএসএফ থেকে শুধু ঋণ প্রদান করি না,ঋণ গ্রহীতার জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আমরা ক্ষুদ্র ঋণ বলি না আমরা বলি উপযুক্ত ঋণ। যে যতটুকু ঋণ ব্যবহার করতে পারবে সেটুকুই তাকে দেয়া হয়।

এম এ খালেক: আপনার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে কিছু জানাবেন কি?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: আমার বাবা মরহুম মৌলানা কাজী মো: মুফজ্জল হোসেন ছিলেন এলাকায় অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন একজন ব্যক্তি। তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষক ছিলেন। তিনি রাজনগর থানার পাঁচগাও ইউনিয়নের রাজখলা গ্রামে ১৯৫০ সালের দিকে বসতি স্থাপন করার পর সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে কিছুদিন রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার কলেজ স্থাপিত হলে তিনি সেই কলেজে যোগদান করেন এবং প্রায় দেড় দশক শিক্ষকতা করার পর অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। আমার মায়ের নাম বেগম ছহিফা খাতুন। আমার স্ত্রী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করছেন। আমাদের দুই ছেলে-কাজী রুশদী আহমেদ এবং কাজী উরফী আহমেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here