ড. মোস্তফা কে মুজেরী
নির্বাহী পরিচালক
ইন্সটিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএম)

সাবেক মহাপরিচালক
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)

ড. মোস্তফা কামাল মুজেরী (মোস্তফা কে মুজেরী) দেশের একজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক। অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এর মহাপরিচালক হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন এবং মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মোস্তফা কে মুজেরী ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের চীফ ইকোনমিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম নমপেন,কমবোডিয়ায় দারিদ্র্য বিমোচন এ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়াও তিনি জাতিসঙ্ঘ,ইউএনডিপি,ইউএন-এসকাপ,ইউএনএফপিএ,সিডা, নোরাড,ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন। তিনি কিছু দিন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেছেন সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে। এবারের আত্মজৈবনিক সাক্ষাৎকারের জন্য আমরা বহুমুখি প্রতিভাধর এই গুনি অর্থনীতিবিদের মুখোমুখি হয়েছিলাম।

এম এ খালেক: আপনার জন্ম এবং পারিবারিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: পৈত্রিক সূত্রে আমার বাড়ি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলায়। আমার পিতা মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান সে সময়ের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভারত ভাগের আগেই সেই চাকরিতে যোগদান করেন। তার সমগ্র চাকরি জীবন এই ব্যুরোতেই অতিবাহিত হয়েছে। আমার মায়ের নাম যোবাইদা রহমান। তিনি প্রধানত গৃহবধু হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন। আমার বাবার চাকরি ছিল বদলীযোগ্য। ফলে প্রায়শই দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলী হতেন। সেই সুবাদে আমাদেরও দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়েছে। আমার জন্ম খুলনা শহরে। ১৯৪৯ সালের ৩০ এপ্রিল। আমি খুলনায় জন্ম গ্রহণ করলেও সেখানকার তেমন কোনো স্মৃতি আমার এখন মনে নেই। কারণ আমার বয়স যখন দুই বছর তখন আমার বাবা বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। আমাদের পরিবার কিন্তু বেশ বড় আকারের। আমরা ১০ ভাই-বোন। এর মধ্যে ৬জন ভাই এবং ৪জন বোন। আমার ভাই-বোন সবাই কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আমার বড় ভাই রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের প্রফেসর। এ ছাড়া ছোট ভাই-বোনরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আমি পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। আমার স্ত্রী জিন্নাতুন নাদিরা রংপুরের বাসিন্দা। আমাদের দুই সন্তান-মুনজেবা এবং নিয়াজ এখন প্রতিষ্ঠিত এবং কানাডা প্রবাসী। আমাদের পরিবারের সবাই উচ্চ শি্িক্ষত এবং ¯œাতকোত্তর ডিগ্রিধারি। আমার জামাতা হাসিব ও মেয়ে মুনজেবা উভয়ই কানাডার ফেডারেল গভর্নমেন্টে কর্মরত এবং দুই নাতি-নাতনী আলিয়াহ এবং রেহান অটোয়াতে স্কুলে পড়াশুনা করছে।

এম এ খালেক: আপনি পড়াশুনা শুরু করেন কখন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: পড়াশুনার স্মৃতি আমার যতদূর মনে পড়ে তাহলো বাবার চাকরি সূত্রে নাটোরে থাকাকালে আমার লেখা-পড়া শুরু হয়। নাটোরে একটি পুরনো বড় জমিদার বাড়িতে আমরা থাকতাম। দোতলা বাড়ির কিছু অংশ ছিল পরিত্যক্ত। অন্য অংশে আমরা থাকতাম। সেখানে আমাদের একজন গৃহ শিক্ষক ছিলেন। গৃহ শিক্ষক প্রতিদিন আমাদের পড়াতে আসতেন। বাড়ির ছাঁদে মাদুর বিছিয়ে আমরা বড় ভাই,আমার ছোট ভাই এবং আমি,এই তিন ভাই একই সঙ্গে পড়াশুনা করতাম। তখনও আমরা কোনো স্কুলে যেতাম না। শুধু বাড়িতেই পড়াশুনা করতাম। আমার বাবা নাটোর থেকে রাজশাহী বদলী হয়ে এলে সেখানে প্রথম স্কুলে ভর্তি হই। মনে আছে,বাবা আমাকে যখন স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নিয়ে গেলেন তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন। আমি প্রশ্নের উত্তর বেশ ভালোভাবেই দিতে পেরেছিলাম। প্রধন শিক্ষক তখন বললেন,একে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করে নেয়া যায়। আমাকে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং আমার বড় ভাইকে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করে নেয়া হলো। আমার ইমিডিয়েট ছোট ভাইকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হলো। লেখা-পড়ায় বরাবরই আমি ভালো ছিলাম। আমি ক্লাশে প্রথম হতাম। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আমি বৃত্তি লাভ করি। এক সময় আমার বাবা পঞ্চগড় বদলী হয়ে যান। তখন পঞ্চগড় কিন্তু এখনকার মতো ছিল না। দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড় যাবার একমাত্র উপায় ছিল সড়ক পথ। সেই রাস্তাও কিন্তু ভালো ছিল না। চলাচলের একমাত্র উপায় ছিল পুরনো আমালের ভাঙ্গা গাড়ি। এসব গাড়ি সম্ভবত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় পরিত্যক্ত হয়েছিল। বাবার চাকরির বদলী সূত্রে আমাদের বিভিন্ন স্থানে যেতে হতো। এই যাওয়া-আসার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ আবার বেদনাও ছিল। আনন্দ হতো এ জন্য যে আমরা প্রায়শই নতুন নতুন স্থানে যেতে পারতাম। কিন্তু খারাপ লাগতো পুরনো বন্ধুদের ছেড়ে যেতে। এই সময় আমি কিছু দিন আমার পৈত্রিক নিবাস রংপুর শহরে ছিলাম। জানুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন ক্লাশে ভর্তি না হলে স্কলারশিপের ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা হতো। তাই আমি রংপুর শহরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। সেখানে কিছু দিন অবস্থান করার পর আমরা পুরো পরিবার পঞ্চগড়ে চলে গেলাম। শহর বলতে আমরা যেমন বুঝি পঞ্চগড় সে অর্থে তখন কিন্তু শহর ছিল না। তবে সেখানে সরকারি কর্মকর্তারা থাকতেন। ফলে অনেকটা শহরের পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। সেখানে আমি বিষ্ণু প্রসাদ (বিপি) হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। এটাই ছিল পঞ্চগড়ের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমরা বই নিয়ে দল বেধে খালি পায়ে স্কুলে যেতাম। স্কুলের ড্রেস ছিল সবুজ রংয়ের ফুল সার্ট এবং সাদা রংয়ের পাজামা। আমার স্কুলে যাবার পথে নানা ধরনের দুষ্টুমি করতাম। এই দুষ্টুমি করতাম নিজেদের মধ্যে। স্কুল ছুটির পর সবাই হৈ চৈ করে বাড়ি ফিরতাম। তবে অন্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো দুষ্টুমি আমরা করতাম না। পঞ্চগড় বিপি হাই স্কুলে থাকা অবস্থায় আমি অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। বৃত্তি পরীক্ষা দেবার জন্য আমাকে ঠাকুরগাঁও শহরে যেতে হয়েছিল। বৃত্তি পরীক্ষায় আমি দিনাজপুর জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করি। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। এরপর আমি দিনাজপুর জেলা স্কুলে ক্লাশ নাইনে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। সেখান থেকে ১৯৬৪ সালে আমি উচ্চতর প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হলাম। অল্পের জন্য আমি স্ট্যান্ড করতে পারিনি। এ সময় পিতার বদলী সূত্রে আমরা রাজশাহী শহরে চলে আসি। রাজশাহী কলেজে আমি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। ১৯৬৬ সালে আমি রাজশাহী বোর্ডে ৫ম স্থান অধিকার করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই।

এম এ খালেক: আপনি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু পড়লেন অর্থনীতি এটা কিভাবে হলো?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী:আমি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। সঙ্গত কারণেই আমার ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে আমি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবো। সেভাবেই মানুষিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বিজ্ঞানের ছাত্রদের নিকট পদার্থ বিজ্ঞান একটি প্রিয় বিষয় ছিল। বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবি ছাত্ররা পদার্থ বিজ্ঞান পড়তেন। ছোট বেলা থেকেই আমরা ইচ্ছে ছিল আমি ঢাকা এসে বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বো। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর আমার বাবা বললেন,তুমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে এতে অনেক খরচ লাগবে। তোমার আরো ভাই-বোন আছে। তাদের পড়াশুনার ব্যাপারও চিন্তা করতে হবে। পিতার চাকরি খুব একটা বড় কিছু ছিল না। আমাদের পরিবারের অন্য কোনো আয়ের পথও ছিল না। আমিও পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারলাম। আমার পিতা আমাকে দু’টো পরামর্শ দিলেন। তিনি আমাকে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অথবা রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ভর্তি হতে বললেন। আমার বাবার ইচ্ছে ছিল আমি অর্থনীতি পড়ে সিএসএস পরীক্ষা দিই। তখনকার দিনে ভালো ছাত্ররা সিএসএস পরীক্ষা দিতো। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার বিষয়টি বাদ দিলাম। যেহেতু বুয়েটে পড়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না তাই রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি অর্থনীতি ও পদার্থ বিজ্ঞান উভয় বিষয়েই পরীক্ষা দিলাম। তখনকার দিনে ভর্তির জন্য মৌখিক পরীক্ষা দিতে হতো। উভয় বিষয়েই ভর্তির জন্য নির্বাচিত হলাম। শেষ পর্যন্ত চিন্তা-ভাবনা করে আমি পিতার পরামর্শ গ্রহণ করে অর্থনীতি বিভাগেই ভর্তি হলাম।

এম এ খালেক: আপনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভর্তি হতে চেয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিবারিক কারণে রাজশাহী বিশ^ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে হলেন অর্থনীতিবিদ। এ জন্য কখনো কি দু:খবোধ করেন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: না,আমি এ জন্য কোনো দু:খবোধ কখনো করি নি। বরং আজ আমি যখন পিছনে ফিরে তাকাই আমি বুঝতে পারি আমার পিতার সে দিনের পরামর্শ আমার জীবন গঠনে অনেক বেশি অবদান রেখেছে। অর্থনীতির মতো বিষয় অধ্যয়ন করেও যে জীবনে সফল হওয়া যায় আমি সে দিন তা বুঝতে পারিনি। কিন্তু আমার পিতা তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি ঠিকই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। বাবার পরামর্শ আমার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত করেছে। আমি মনে করি আমার পিতার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। পরবর্তীতে একটি স্বাধীন দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র হলেও কিছুটা অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছি তা আমার জীবনের একটা বড় পাথেয়।

এম এ খালেক: এক সময় দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন বিশিষ্ট কবি কাজি কাদির নেওয়াজ। আপনি কি তার ছাত্র ছিলেন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি যখণ ছাত্র তখন কবি কাজি কাদির নেওয়াজ দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অনেকেই হয়তো জানেন যে কাজি কাদির নেওয়াজ এর সাথে কবি নজরুল ইসলামের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তার চেহারার সঙ্গে কবি নজরুল ইসলামের চেহারার কিছুটা মিলও রয়েছে। তিনি বয়স্ক এবং কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তবে ছাত্রদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মাঝে মধ্যে শাসন করতেন আবার কাছে ডেকে নিয়ে গল্পও করতেন। আমরা সবাই তাকে খুব শ্রদ্ধা করতাম এবং তাঁর ছাত্র হিসেবে গর্ব বোধ করতাম।

এম এ খালেক: আপনি কি ছাত্র জীবনে খেলাধুলা করতেন? নাকি শুধু পড়া লেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: আমি লেখা-পড়ায় বরাবরই ভালো ছিলাম। কখনো লেখা-পড়ায় ফাঁকি দিতাম না। তবে নিয়মিত খেলাধুলাও করতাম। প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাবার খেয়ে মাঠে ছুটে যেতাম। খেলার মাঠই ছিল আমাদের দুষ্টুমির সবচেয়ে বড় জায়গা। আমাদের সেখানে সবচেয়ে বেশি খেলা হতো ফুটবল। আমার মাঠে ফুটবল খেলতাম। কোনো কোনো সময় বড়রা মাঠ দখল করে রাখতো। তাই আমরা ক্ষেতের মধ্যে ফুটবল খেলতাম। ফুটবল খেলা নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের মাঝে তর্ক বিতর্ক হতো। সেই তর্ক-বিতর্ক অনেক সময় ছোট খাটো মারামারিতে পর্যবসিতও হতো। এই তর্ক বিতর্ক বা মারামারিকে কিন্তু আমরা আনন্দের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করতাম। আমাদের পরিবারের একটি নিয়ম ছিল আমরা যেখানেই যাই বা করি না কোনো মাগরিবের আযান হবার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ফিরে আসতে হতো। কাজেই আমরা সব সময় চেষ্টা করতাম কত তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে ফিরে এসে মাঠে যাওয়া যায়। পারিবারিক শাসনের ফলে আমাদের জীবন ছিল বেশ সুশৃঙ্খল।

এম এ খালেক: মা-বাবা উভয়েই তাদের সন্তানকে ভালোবাসেন। তারপরও এই দু’জনের ভালোবাসার কম বেশি হতে পারে। আপনার মা এবং বাবা এই দু’জনের মধ্যে কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: বাবা-মা দু’জনই আমাদের ভালোবাসতেন। বাবাকে আমরা সব সময়ই ব্যস্ত থাকতে দেখতাম। তিনি সরকারি কর্মকান্ডেই বেশি ব্যস্ত থাকতেন। বিভিন্ন সময় বাবা ট্যুরে যেতেন। তিন/চার দিন ট্যু’রে থাকতেন। কাজেই বাবাকে আমরা খুব কমই কাছে পেতাম। মা আমাদের বাসায় আগলে রাখতেন। আমরা মায়ের সাহচর্যই বেশি পেতাম। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে বাবা আমাদের ভালোবাসতেন না। বাবা যখন ট্যুর থেকে আসতেন তখন আমাদের জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসতেন। বাসায় থাকলে বাবা আমাদের পড়াতেন। যখনই সময় পেতেন আমাদের নিয়ে পড়াতে বসতেন। আমার শিক্ষার মূল ভিত্তিটা তৈরি হয়েছে বাবার হাতেই। তিনি অত্যন্ত যতœ নিয়ে আমাদের ইংরেজি গ্রামার এবং বাংলা গ্রামার পড়াতেন। আমরা প্রাইভেট টিচারের নিকট পড়েছি। কিন্তু বাবার হাতেই আমাদের শিক্ষার মূল ভিত্তি রচিত হয়েছে। বাবা- মা দু’জনই আমাদের ভালোবাসতেন। কাজেই কে বেশি ভালোবাসতেন তা বলা মুস্কিল।

এম এ খালেক: বিগত ৪৭ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নানা ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কোন্ সাফল্যটিকে আপনি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: স্বাধীনতার পর আমরা প্রায় পাঁচ দশক অতিক্রম করছি। এই দীর্ঘ সময়ে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের অনেক অর্জন আছে এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। আবার কিছু কিছু ব্যর্থতাও আছে। তবে সাফল্যের পাল্লাটিই ভারি। আমার নিকট অর্থনৈতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জনটি হচ্ছে এই যে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি পেয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ২০ বছরের মধ্যে আমরা এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হই। এই ঘুরে দাঁড়ানোটা আমার নিকট সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়। এট ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে দেশের সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারি। তারা সুযোগ পেলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতি এবং পরিবেশে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের কাজ করেছে। সরকার গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করেছে। একই সাথে বেসরকারি সংস্থাগুলোও অবদান রেখেছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো গ্রামীণ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। অর্থাৎ সবার সম্মিলিত চেষ্টায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রতিনিয়তই গ্রামীণ অর্থনীতি তথা জাতীয় অর্থনীতিতে এক ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছে। এখন আমরা আরো বেগবান গতিতে এগিয়ে চলেছি। জাতিসঙ্ঘ কিছুদিন আগে বাংলাদেশকে প্রাথমিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। উন্নয়নের এই গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুুক্ত হবে। এটা কিন্তু বিস্ময়কর এক অর্থনৈতিক অগ্রগতি। আমি মনে করি,স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে সব অগ্রগতি অর্জন করেছে তার মধ্যে এই ঘুরে দাঁড়ানোটাই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এখন আমরা এমন এক অবস্থার মধ্যে এসে উপনীত হয়েছি যেখান থেকে আমাদের আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। আগামীকে আমরা আরো এগিয়ে যাবো। বিগত বছরগুলোতে অনেক ধরনের বাঁধা-বিঘœ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করেছি। কিন্তু কখনোই আমাদের উন্নয়নের গতি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্তিমিত হয়ে পড়েনি। আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে আমাদের অর্থনীতি অনেকটাই ভেঙ্গে পড়তো। এখন সেই অবস্থা আর নেই। আমরা সহজেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারছি। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পেরেছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। অর্থনীতির এই শক্ত ভিত্তি আগামীতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যাবার জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

এম এ খালেক: ঢাকা শহরে আবাসন সঙ্কট অত্যন্ত প্রকট। সরকার ঘোষণা দিয়েছেন আগামীতে শহরের সুবিধা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে গ্রামীণ জনগণের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে গ্রামীণ জনপদে আবাসন চাহিদা বাড়বে। এই অবস্থায় আবাদি জমি রক্ষার জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: আপনি যদি আমাদের দেশ,বিশেষ করে রাজধানী শহর ঢাকার আবাসন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করেন তাহলে বলতেই হবে এটি একটি মারাত্মক সঙ্কট। দরিদ্র জনগোষ্ঠি বস্তিতে বাস করে। তারা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। ঢাকা শহরের আবাসন সঙ্কট সমাধান করতে হলে আমাদের দু’দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। চাহিদা এবং সরবরাহ এই দু’ই দিকেই দৃষ্টি দিতে হবে। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইস্তেহারে বলেছে,শহরের সুবিধা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। এই উদ্যোগ চাহিদার ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে আমাদের দেশে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন হয়। অর্থাৎ উন্নত সুবিধার আশায় মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসে। কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন এবং শহরের সুবিধা যদি গ্রামে সম্প্রসারিত করা যায় তাহলে আগামীতে শহরমুখি জনশ্রোত অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা যায়। বর্তমান অবস্থায় সকল সুবিধা যেহেতু শহরেই সীমাবদ্ধ তাই গ্রামের মানুষ না চাইলেও তাদের শহরে আসতে হচ্ছে। আগামীতে গ্রামেই যদি শহরের সুবিধাসমূহ পাওয়া যায় তাহলে মানুষ আর গ্রাম থেকে শহরে আসতে চাইবে না। আমরা যদি শহরের সুবিধাগুলোকে গ্রামে নিয়ে যেতে পারি তাহলে শহরমুখো অভিবাসন প্রক্রিয়া অনেকটাই কমে আসবে। এতে শহরের আবাসন সঙ্কট কমে আসবে। এতে আবাসন সমস্যার টেকসই সমাধান করা সম্ভব হবে।

এম এ খালেক: আপনার জীবনের এমন একটি ঘটনার কথা বলবেন কি যা অবসর সময়ে আপনাকে আনন্দ দেয়?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: মানুষের জীবনে আনন্দ বেদনার অনেক ঘটনাই ঘটে থাকে। আমার জীবনেও এমন অনেক ঘটনা আছে যা অবসর সময়ে আমাকে আনন্দ দেয়। বেদনার ঘটনাও আছে। আমি এর মধ্যে একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। ঢাকা শহরের বাইরে আমার জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে। শৈশব, কৈশর এবং যৌবনের দীর্ঘ সময় আমার ঢাকা শহরের বাইরে কেটেছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের কর্মকান্ড অনেকটাই ঢাকা কেন্দ্রিক। এখনো সেই অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয় নি। আপনি যদি ঢাকা শহরে না থাকেন অথবা ঢাকা শহরের সঙ্গে আপনার সংযোগ না থাকে তাহলে অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে হবার আশঙ্কা থাকে। জীবন চলার পথে এক পর্যায়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমি অর্থনীতি চর্চা করবো। এই সিদ্ধান্ত আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। একই ভাবে আমি যখন ঢাকা শহরে আসি তখন আমার জীবনের মোড়টাও ঘুরে যায়। আমার ঢাকা আসার পেছনে একটি চমকপ্রদ ঘটনা আছে। আমি তখন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলাম। ১৯৮৪ সালে এক দিন অনেকটা হঠাৎ করেই ঢাকার পরিকল্পনা কমিশন থেকে একটি ‘টেলিফোন কল’ পাই। এতে বলা হয়, আমাকে জাতিসঙ্ঘের জাতীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৃতীয় পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজে আমাকে নিয়োগ দিতে সরকার আগ্রহী। আমি যদি রাজি থাকি তাহলে যেনো এক সপ্তাহের মধ্যে এসে কাজে যোগদান করি। অনেকেই আমাকে এই কাজে যোগদান করার জন্য উৎসাহিত করেন। কেউ বা আবার নিরুৎসাহিতও করেন। আমি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে নতুন দায়িত্বে যোগদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এই সিদ্ধান্ত আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সে দিন এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে আমি ঢাকা কেন্দ্রিক জীবনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারতাম না। আমি হয়তো রাজশাহীতেই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকতাম। এটা আমার জীবনের একটি আনন্দের ঘটনা।

এম এ খালেক: আপনি এমন কোনো ঘটনার কথা বলবেন কি যা আপনাকে কস্ট দেয়?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী:আমার ব্যক্তি জীবনে একটি বড় ধরনের ঘটনা আছে যা আমাকে সব সময়ই দু:খ দেয়। ঘটনাটি হচ্ছে আমার মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। আমি যখন রাজশাহী থেকে ঢাকা চলে আসি তার কয়েক মাসের মধ্যেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়। আমার মা রাজশাহীতেই ছিলেন। সেখানে তিনি হঠাৎ করেই ইন্তেকাল করেন। তখন যাতায়াত ব্যবস্থা আজকের দিনের মতো এতটা উন্নত ছিল না। আমি মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাজশাহী রওনা হই। কিন্তু যেতে যেতে বিলম্ব হয়ে যায়। ফলে আমি আমার মৃত মায়ের মুখ শেষ বারের মতো দেখতে পাইনি। আমি রাজশাহী পৌঁছানোর আগেই মায়ের কবর দেয়া হয়। সবচেয়ে দু:খজনক ব্যাপার হচ্ছে যে দিন মায়ের মৃত্যু হয় তার দু’দিন পরই মা আমার ঢাকার বাসায় বেড়াতে আসার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সেই দিন তিনি মারা না গেলে দু’দিন পরই তিনি আমার কাছে ঢাকায় আসতেন। কিন্তু আকর্ষ্মিক মৃত্যু আমার মাকে সেই সুযোগ দেয় নি। এটা ছিল আমার জন্য খুবই দু:খজনক একটি ঘটনা। এখনো বিষয়টি মনে হলে আমি অনুশোচনায় ভুগি।

এম এ খালেক:আমরা সবাই একদিন চলে যাবো। কেউই এই পৃথিবীতে চিরদিন থাকবো না। আপনার এমন একটি প্রত্যাশার কথা বলবেন কি যা এখনো পূরণ হয় নি?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: ব্যক্তি জীবনের চাওয়া-পাওয়াকে আমি খুব একটা গুরুত্ব দেই না। আমি বর্তমানে পর্যায়ে এসে যা পেয়েছি তাতেই আমি সন্তুষ্ট। ব্যক্তি জীবনে না পাওয়ার বেদনা আমার খুব একটা নেই। আমি উন্নয়ন নিয়ে পড়াশুনা করেছি এবং উন্নয়ন নিয়েই কাজ করছি তাই আমি খুব খুশি হতে পারতাম যদি দেশের সব মানুষ ন্যায্যতার ভিত্তিতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারতো। দরিদ্র মানুষ যদি তাদের ন্যুনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারতো। অর্থাৎ আমার প্রত্যাশা হচ্ছে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি দেখা। এটা আমাদের জাতির স্বপ্ন,স্বাধীনতার প্রত্যাশা। আমাদের জাতির পিতাও চাইতেন সবার মুখে হাসি ফুটাতে। আমরা অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারছি না। এটা আমার জীবনের একটি বড় প্রত্যাশা যা এখনো পূরণ হয় নি।

এম এ খালেক: মুক্তিযুদ্ধ কালিন কোনো ঘটনার কথা কি মনে পড়ে?

ড.মোস্তফা কে মুজেরী: মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে দীর্ঘ প্রস্তুতির ফসল। ১৯৭১ সালে আমি রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলাম। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের আগেই অনেক ঘটনা ঘটে। সেই সময় ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ড.জোহা শহীদ হন। এতে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এক ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয় কিছু একটা করার জন্য। মনে হচ্ছিল এবার মুখোমুখি কিছু একটা হতে যাচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় আসছে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমরা বিশ^বিদ্যালয় ত্যাগ করে আশে পাশের এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করি। মে মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন রাজশাহীতে অগ্রসর হয় তখন রাজশাহী শহরে অবস্থিত আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। আমরা তখন পুরো পরিবারসহ রাজশাহী শহর থেকে ১৫ মাইল দূরবর্তী একটি মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করি। আমি যদিও ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করিনি কিন্তু দেশে থেকেই নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য সহযোগিতা করেছি।
এটা আমার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি ব্যাপার যে আমি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলে আমরা সেই দিনই রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে এসে বিজয় উদযাপন করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here