জাহাজের ভেতরে ঢুকতেই অভ্যর্থনা জানালেন একদল বাদ্যযন্ত্রী। বাদকদের হাতে সুর ছড়াচ্ছে পিয়ানো, বাঁশি আর স্যাক্সোফোন। আপন খেয়ালে বাজিয়েই চলেছেন তাঁরা। মূল ফটক পেরিয়ে একটু এগোই, ভেতরে যেতেই স্বাগত জানালেন একজন ছদ্মবেশী মানুষ। প্রাচীন মানুষের মতো তিনি সঙ সেজেছেন। হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘ওয়েলকাম’। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে করিডর ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল জাদুকরের ভেলকি। আরও কিছুদূর গিয়ে ভড়কে গেলাম রাজা-রানিকে দেখে, তাঁরা অপূর্ব দেহভঙ্গিমায় নেচে চলেছেন। উচ্চতা ৮-১০ ফুট। পরে জানলাম, আদতে তাঁরা রণপাশিল্পী, তাই উচ্চতার এই হাল!

কেল গড়িয়েছে। দিনের সূর্যকে বিদায় বলা দরকার। ব্যাগ রেখে তাই ডেকের দিকে চলে গেলাম। সাগরে ভেসে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখার মতো মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আর দ্বিতীয়টি নেই! তাই আর যা–ই হোক, সন্ধ্যার সূর্যাস্ত মিস করা যাবে না।

জাহাজ চলছে বাল্টিক সাগরের বুক চিরে। একটু একটু করে বাড়ছে হেলসিঙ্কি থেকে দূরত্ব। দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ার আগেই আরেকবার চোখ ফেরালাম ফিনিশ রাজধানীর দিকে। সবুজঘেরা হেলসিঙ্কি। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাড়িগুলো দূর থেকে দেখতে ভালো লাগছে। সেই সঙ্গে ঐতিহ্যের গর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো হোয়াইট চার্চ নীরবে বিদায় বলছিল।

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে সিলিয়া লাইন। দূরে মিলে গেছে হেলসিঙ্কি। এখন বাল্টিক সাগরের বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য ছোট-বড় দ্বীপ দৃষ্টি কাড়ছে। ইচ্ছা হচ্ছিল লাফ দিয়ে সাগরে নেমে পড়ি, সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যাই দ্বীপে। কিন্তু ইচ্ছাটা গোপনই করতে হলো!

ততক্ষণে অস্তগামী সূর্যের রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছে আকাশে। তার ছায়া পড়েছে সমুদ্রজলে; যেন তা দিগন্তবিস্তৃত একটা রক্তিম চাদর। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামল। আরও কিছুটা পর গাঢ় অন্ধকারে হারিয়ে গেল আকাশ, সাগর আর দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেল সাগরপারের প্রকৃতি। তখন হেসে উঠল আকাশের গায়ে মিটিমিটি খুদে তারার দল। দূরে, বহুদূরে সমুদ্রের বুকে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে মাছধরার নৌকাগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here